:

ইরানের ড্রোন হামলায় লন্ডভন্ড কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি: কুয়েতে নিহত ৪ মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ

top-news

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাবানল আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান সরাসরি সংঘাতের চতুর্থ দিনে কুয়েতের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শুয়াইবা বন্দরে ইরানের শক্তিশালী ড্রোন হামলায় ৪ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পেন্টাগন মঙ্গলবার নিহত সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করার পাশাপাশি সতর্ক করেছে যে, এই লড়াইয়ে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, নিহত চার সেনাই আইওয়া ভিত্তিক ‘আর্মি রিজার্ভ ইউনিট ১০৩য় সাসটেইনমেন্ট কমান্ড’-এ কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— ক্যাপ্টেন কোডি এ. খোরক (৩৫), সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল এম. আমোর (৩৯) এবং তরুণ সার্জেন্ট ডেকলান জে. কোডি (২০)।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্লিন্ট বার্নস নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "তারা ছিলেন স্বাধীনতার দূত। দেশের জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ মার্কিন সামরিক ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।


প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, সেনারা কুয়েতের বন্দরে একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে অবস্থান করছিলেন। ভবনটি কংক্রিটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকলেও আকাশপথের ড্রোন হামলা মোকাবিলার মতো শক্তিশালী ছাদ সেখানে ছিল না।

গত দুই দশকের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী আকাশপথে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও, সাম্প্রতিক ড্রোন প্রযুক্তি তাদের সেই সুরক্ষাবলয়ে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, এমনকি শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স থাকা সত্ত্বেও কিছু ‘ট্যাকটিক্যাল’ ড্রোন পথ খুঁজে নিতে সক্ষম হয়, যা এই প্রাণহানির কারণ।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ১,৭০০-এরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। 

মঙ্গলবার ইরানের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (Assembly of Experts) এবং ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ এর কার্যালয়গুলোতেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালেই এই হামলাগুলো চালানো হয়। তেহরানের আকাশে বর্তমানে ইসরায়েলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমানের একচ্ছত্র আধিপত্য বিরাজ করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রস্তাব উঠলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, *"তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা, নৌবাহিনী এবং নেতৃত্ব সব শেষ। তারা এখন আলোচনা করতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি অনেক দেরি হয়ে গেছে!"*

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ: দ্বিতীয় ‘ইরাক যুদ্ধ’ কি দীর্ঘস্থায়ী হবে?

ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করা যতটা সহজ ছিল, ইরানের ৯৩ মিলিয়ন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা ততটাই কঠিন হবে।

বিশ্লেষক পল সালেম বলেন,"ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থা বহুমুখী এবং অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক। সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা মানে তাকে একজন 'শহীদ' বানিয়ে দেওয়া, যা সাধারণ ইরানিদের মধ্যে মার্কিন বিরোধী সেন্টিমেন্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।"

এছাড়াও, ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা প্রক্সি বাহিনীগুলো (হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়া) এই যুদ্ধের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৭০ জন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোক ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ইরান একে ‘মার্কিন সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করলেও ওয়াশিংটন বলছে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *